কনটেন্টটি শেষ হাল-নাগাদ করা হয়েছে: মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৬ এ ০২:৪৭ PM
কন্টেন্ট: খবর প্রকাশের তারিখ: ০৩-১১-২০২৬ আর্কাইভ তারিখ: ০৮-০৭-২০২৭
যশোরে ‘কন্দাল ফসলের বর্তমান প্রেক্ষাপট ও ভবিষ্যৎ করণীয়’ শীর্ষক এক আঞ্চলিক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। কন্দাল ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি, উন্নত জাত ও প্রযুক্তির সম্প্রসারণ, গবেষণা কার্যক্রম জোরদারকরণ এবং কৃষকের আর্থসামাজিক উন্নয়নে ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের লক্ষ্যে এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়।
কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনাঅনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব জনাব মির্জা আশফাকুর রহমান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বারি) মহাপরিচালক ড. মোঃ মনজুরুল কাদির। কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন কন্দাল ফসল গবেষণা জোরদারকরণ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ও মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মুহাম্মদ খোরশেদ আলম।
কর্মশালায় কৃষি মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সম্মানিত অতিথিবৃন্দ, সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও প্রতিনিধিবৃন্দ, কৃষক প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
মূল প্রবন্ধে ড. মুহাম্মদ খোরশেদ আলম দেশের কন্দাল ফসলের বর্তমান অবস্থা, উৎপাদন সম্ভাবনা, বিদ্যমান সমস্যা ও চ্যালেঞ্জ এবং ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, কৃষকের আয় বৃদ্ধি এবং কৃষিতে বহুমুখীকরণে কন্দাল ফসল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। বিশেষ করে আলু, মিষ্টি আলু, মুখীকচু, পানিকচু, ওলকচু, গাছ আলু ও অন্যান্য কন্দাল ফসলের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধিতে উন্নত জাত উদ্ভাবন, আধুনিক উৎপাদন প্রযুক্তির সম্প্রসারণ, রোগবালাই ব্যবস্থাপনা, সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জনাব মির্জা আশফাকুর রহমান কন্দাল ফসলের উৎপাদন ও গবেষণা কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, দেশের খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রচলিত ফসলের পাশাপাশি কন্দাল ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি এবং এর বহুমুখী ব্যবহার সম্প্রসারণ করা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে গবেষণা প্রতিষ্ঠান, সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, কৃষক ও সংশ্লিষ্ট বেসরকারি খাতের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় গড়ে তুলতে হবে। পাশাপাশি গবেষণালব্ধ প্রযুক্তি দ্রুত কৃষকের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ওপর তিনি গুরুত্ব দেন।
সভাপতির বক্তব্যে ড. মোঃ মনজুরুল কাদির বলেন, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট দেশের কৃষির উন্নয়নে নতুন নতুন জাত ও প্রযুক্তি উদ্ভাবনে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। কন্দাল ফসলের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, প্রতিকূল পরিবেশে চাষাবাদের উপযোগী জাত উদ্ভাবন এবং উৎপাদন-পরবর্তী ব্যবস্থাপনার উন্নয়নে গবেষণার বিকল্প নেই। তিনি আরও বলেন, কৃষকের চাহিদাভিত্তিক গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা এবং উদ্ভাবিত প্রযুক্তির মাঠপর্যায়ে সম্প্রসারণের মাধ্যমে কন্দাল ফসলের উৎপাদন ও বাণিজ্যিক সম্ভাবনা বাড়ানো সম্ভব।
কর্মশালায় অংশগ্রহণকারী কৃষক প্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা কন্দাল ফসল উৎপাদনের বিভিন্ন সমস্যা, সম্ভাবনা এবং মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। আলোচনায় উন্নত ও উচ্চফলনশীল জাতের সহজলভ্যতা, মানসম্মত বীজ ও planting material সরবরাহ, আধুনিক চাষাবাদ প্রযুক্তির সম্প্রসারণ, রোগবালাই দমন, কৃষিপণ্য সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াজাতকরণ, বাজারজাতকরণ এবং কৃষকের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার বিষয়গুলো বিশেষ গুরুত্ব পায়।
কর্মশালায় বক্তারা কন্দাল ফসলের গবেষণা ও উন্নয়ন কার্যক্রমকে আরও সমন্বিত ও কৃষকবান্ধব করার আহ্বান জানান। তাঁরা মনে করেন, সরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান, সম্প্রসারণ বিভাগ, বিশ্ববিদ্যালয়, বেসরকারি খাত এবং কৃষকদের সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে কন্দাল ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি ও বাণিজ্যিকীকরণের নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি করা সম্ভব।
কর্মশালাটি দেশের কন্দাল ফসলের গবেষণা, উৎপাদন ও সম্প্রসারণ কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।
সংবাদদাতা: কৃষিবিদ শারমিনা শামিম
আঞ্চলিক বেতার কৃষি অফিসার,খুলনা।