Friday April 2026

হটলাইন

কনটেন্টটি শেষ হাল-নাগাদ করা হয়েছে: রবিবার, ৭ ডিসেম্বর, ২০২৫ এ ০২:৫৯ PM

যশোরের চৌগাছায় ধান চাষে নতুন প্রযুক্তির প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত

কন্টেন্ট: খবর প্রকাশের তারিখ: ০৭-১২-২০২৫ আর্কাইভ তারিখ: ১৭-১২-২০২৬

যশোরের চৌগাছায় ধান চাষে নতুন প্রযুক্তির প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত

                                                                    

                   বাংলাদেশে ধান উৎপাদনের প্রধান মৌসুম হলো বোরো, যার সম্পুর্ণ চাষটাই সেচ নির্ভর। ফলে ইরি-বোরো ধান চাষে মাটি থেকে আর্সেনিক, ক্যাডনিয়ামের মতো বিষাক্ত পদার্থ চাউলের মাধ্যমে আমাদের শরীরে প্রবেশ করছে। ধান চাষে পরিমিত সেচের মাধ্যমে এ ক্ষতির হাত থেকে রেহাই পেতে জাপানের জাতীয় কৃষি গবেষণা কেন্দ্র (NARO) 3F4D+MD প্রযুক্তি প্রয়োগ করে সফলতা পেয়েছেন। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ময়মনসিংহে প্রযুক্তিটি পরীক্ষামূলক প্রয়োগে সফলতা পাওয়া গেছে। বিষয়টি নিয়ে এশিয়া আর্সেনিক নেটওয়ার্ক জাইকার সহায়তায় যশোরের চৌগাছা উপজেলায় মাঠ পর্যায়ে কাজ শুরু করেছে।

                   প্রযুক্তিটি মাঠ পর্যাযে প্রয়োগে সফলতার জন্য ‘নিরাপদ ও পুষ্টিকর ধান উৎপাদনের জন্য প্রজনন ও পানি ব্যবস্থাপনা প্রযুক্তির উন্নয়ন’ বিষয়ে ২৪ নভেম্বর সকাল ১০টায় উপজেলা কৃষি অফিস হলরুমে উপসহকারী কৃষি অফিসারদের এক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর যশোর অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক আলমগীর বিশ্বাস প্রশিক্ষণের উদ্বোধনকালে বলেন, কৃষি সমৃদ্ধ অঞ্চল হিসেবে যশোর অঞ্চলের খ্যাতি রয়েছে। ভূ-গর্ভস্থ সেচ নির্ভর ফসল চাষাবাদের কারণে প্রতিবছর ০.৭ ফুট ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর নীচে নেমে যাচ্ছে। ফলে চাউলে আর্সেনিক ও ক্যাডনিয়ামের মতো ক্ষতিকর রাসয়নিকের উপস্থিতি সনাক্ত হয়েছে। পাশাপাশি পানিতে আয়রনের পরিমাণও বেড়ে গেছে। তিনি জাপান উদ্ভাবিত 3F4D+MD প্রযুক্তিটি সেচ সাশ্রয়সহ বোরো ধান চাষ অধিক লাভজনক ও কার্যকর হবে বলে আশা প্রকাশ করেন।

                 প্রযুক্তির বিষয়বস্তুর উপর প্রশিক্ষণ দেন, জাপানের জাতীয় কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের বিজ্ঞানী কেন নাকামুরা। প্রযুক্তির বিষয়ে নাকামুরা জানান, ধান চাষে রোপনের পর কাইচ থোড় বের হওয়া পর্যন্ত স্বাভাবিক চাষের মতই জমিতে পানি রাখতে হবে। কাইচ থোড় শুরু হলেই এ সময় থেকে ছয় সপ্তাহ পর্যন্ত জমিতে পানির পরিমাণ নিয়ন্ত্রনে রাখতে হবে।  ধানের প্লটে পানি দিয়ে একটি কাঠি দিয়ে ৩দিনে যে পরিমাণে পানি মাটির ভিতর প্রবেশ করবে তা মেপে নিতে হবে। এর পর ৪ দিন জমি শুকাতে হবে। আবার তিন দিনে পানি টানতে পারে এমন পরিমাণে পানি দিয়ে আবার শুকাতে হবে। এভাবে ছয় সপ্তাহ এ কাজটি করতে হবে, এটাই হলো 3F4D+MD প্রযুক্তি। এ প্রসংগে নাকামুরা বলেন, গবেষনায় দেখা গেছে ধান চাষে এ প্রযুক্তি প্রয়োগ করলে সেচের পানি শতকরা ৬০ থেকে ৭০ পর্যন্ত সাশ্রয় করা সম্ভব পাশাপাশি আর্সেনিক সংক্রমণের হার ২০ থেকে ৪০ ভাগ কমানো যায়।

                প্রশিক্ষণের সমাপনী বক্তব্যে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্রশিক্ষণ উইংয়ের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক লুবনা রহমান বলেন, জাপানের নারো উদ্ভাবিত 3F4D+MD প্রযুক্তিটি প্রয়োগ করলে সেচের পানির উপর চাপ কমানোসহ পানি সাশ্রয় হবে ও বিদ্যুৎ খরচ কম হবে। এ আধুনিক প্রযুক্তির প্রসার ঘটলে সরকারের ভূ-গর্ভস্থ পানি নিয়ন্ত্রনে কর্মসূচী বাস্তবায়ন সম্ভব হবে, ধানের ফলন বাড়বে ও নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন সম্ভব হবে। অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর মোঃ রফিকুল ইসলাম, ডিএই যশোরের উপপরিচালক মোঃ মোশাররফ হোসেন, জাইকার মূখ্য পরমর্শক তাকিহিরো কামিয়া ও জাইকার প্রজেক্ট কো-অর্ডিনেটর রাইউচি কাটসুকি ও চৌগাছা উপজেলা কৃষি অফিসার মোঃ মোসাব্বির হোসেন। দিনব্যাপী এ প্রশিক্ষনে উপজেলার সকল উপসহকারী কৃষি অফিসারবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন।

সংবাদদাতাঃ মোঃ আবদুর রহমান, এআইসিও, কৃতসা, খুলনা।


ফাইল ১
ফাইল ২

এক্সেসিবিলিটি

স্ক্রিন রিডার ডাউনলোড করুন